মোবাইল ফোনের দাম বৃদ্ধি কি পরিকল্পনা করা scam ?

স্মার্ট ফোনের দাম বাড়ানো কি একটা পুরো চিন্তা ভাবনা করা ষড়যন্ত্র ? কারণ পেছনে বড়- বড় টেক কোম্পানি , samsung, micron,sk hynix এদের ওপর কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।

আসলে মার্কেটে ai আসার জন্যে ডেটা সেন্টার ব্যাপক পরিমাণে তৈরি করা হচ্ছে,আর সেই ডেটা সেন্টার তৈরির জন্যে লাগছে ডি-র‍্যাম(D-RAM )স্টোরেজ। মার্কেটে মূলত এই তিনটি কোম্পানি র‍্যাম স্টোরেজ ব্যাপক পরিমাণে তৈরি করে। 

বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন, পিসি এবং ল্যাপটপের বাজারে র‍্যাম ও স্টোরেজের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ১৪ জন ব্যাক্তি এবং পিসি রিটেইলার মিলে বিশ্বের শীর্ষ তিন মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান— স্যামসাং (Samsung), এসকে হাইনিক্স (SK Hynix) এবং মাইক্রন (Micron)-এর বিরুদ্ধে একটি আইনি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বাজারে বেশি মুনাফা লাভের আশায় এই কোম্পানিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মেমোরির উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে

যেহেতু স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের হাতে বাজারের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তাই তারা একচেটিয়াভাবে সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা সাধারণ স্টোরেজের প্রোডাকশন কাট বা উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ফলে অন্যান্য টেক ব্র্যান্ডগুলো তাদের ডিভাইস তৈরির জন্য পর্যাপ্ত স্টোরেজ পাচ্ছে না, আর পেলেও সেই লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। অবশেষে, এই বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ঘাড়েই এসে পড়ছে।

২৫শে জুন এই আইনি মামলার খবর প্রকাশ্যে আসে, যার ফলে এই তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
এ ঘটনার আগে দাম বাড়িয়ে সর্বোচ্চ লাভ করেছ কোম্পানি গুলি। আইনি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দাম প্রায় ৭০০% বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও, তিনটি বিবাদী প্রতিষ্ঠানের কেউই সাধারণ ডি-র‍্যামের (D-RAM) উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়নি বা দাম কমানোর কোনো ঘোষণা করেনি
এটা প্রথম নয়,এ ধরনের ঘটনা এর আগে ঘটেছে 2000 সালে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে, একই ধরনের আইনি মামলা হয়েছিল। যেখানে মাইক্রন দোষ স্বীকার করায় কোম্পানিগুলোর ওপর ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও এমন অভিযোগ উঠলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে মামলাটি বাতিল হয়ে যায়।

বাজারে দাম বাড়ার ফলে সস্তায় পিসি বিল্ড করা, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন কেনা সবখানেই দাম বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন সাশ্রয়ী মূল্যের গ্যাজেট কেনা সাধারণ গ্রাহক ও শিক্ষার্থীদের  অসুবিধা হচ্ছে

দাম বৃদ্ধির ফলে অ্যাপল (Apple)-এর মতো শীর্ষ ব্র্যান্ড ও তাঁদের প্রোডাক্ট গুলির দাম বাড়িয়েছে।

গ্রাহকদের মনে আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, ২০২০-২০২৪ সালের মতো সস্তা গ্যাজেট বা সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের বাজার কি আর ফিরে আসবে? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হুবহু পুরনো দাম বা আগের সেই সস্তা বাজার ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে সাশ্রয়ী দামে নতুন বিকল্প আসতে পারে ।
আপাতত এই বাজেট ফোনের অভাব পূরণ করতে বিভিন্ন চাইনিজ ওডিএম ভিত্তিক ফোন শুধু রি-ব্র্যান্ড করে বাজারে বিক্রির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

Leave a Comment