দীর্ঘ অপেক্ষা 20 বছর পর বাংলায় ফের কি টাটার ন্যানো ফ্যাক্টরি আসতে চলেছে ? সিঙ্গুর-ইতিহাসের পর নতুন মোড়
নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে কি ফের টাটা গোষ্ঠী ফিরে আসছে? সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির নেতার মন্তব্য ঘিরে এই জল্পনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিল্পায়নের এই বার্তা এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
টাটাকে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি ও নেতাদের বক্তব্য রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি নেতা তাপস রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা টাটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি”। তাঁর মতে, এই উদ্যোগটি মূলত একটি উজ্বল একটি পদক্ষেপ, যার প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে চলে যাওয়া শিল্পগুলোকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি দাবি করেছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গত কয়েক বছরে প্রায় ৬৫,০০০ কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছে। তাই রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প ফিরিয়ে আনতে তারা টাটাকে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা করতে চায়।
টাটাকে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি ও নেতাদের বক্তব্য
রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি নেতা তাপস রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা টাটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি”। তাঁর মতে, এই উদ্যোগটি মূলত একটি উজ্বল একটি পদক্ষেপ, যার প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে চলে যাওয়া শিল্পগুলোকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি দাবি করেছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গত কয়েক বছরে প্রায় ৬৫,০০০ কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছে। তাই রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প ফিরিয়ে আনতে তারা টাটাকে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা করতে চায়।
সিঙ্গুর ও টাটা ন্যানোর ইতিহাস
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যিনি সমাজে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তিনি পরে বুঝতে পারে রাজ্যে শিল্প না এলে উদগতি হওয়ার লক্ষ্য নেই। তাই হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করেশিল্পায়নের লক্ষ্যে টাটাকে সিঙ্গুরে প্রায় ১০০০ একর জমি প্রদান করেন। মাত্র ২ বছরের মধ্যে টাটা কারখানা তৈরি করে এবং ২০০৮ সালে তাদের গাড়ির প্রোটোটাইপও সামনে আনে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন ও টাটার বিদায়
কিন্তু এরপরই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ৪০০ একর অব্যবহৃত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ অনশনে বসেন। কারখানার কর্মীদের কাজে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং লাগাতার বিক্ষোভের জেরে ২০০৮ সালে রতন টাটা বাধ্য হয়ে সিঙ্গুর থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর টাটা তাদের কারখানা গুজরাটের সানন্দে স্থানান্তরিত করে এবং ২০০৯ সালে সেখান থেকেই ন্যানো গাড়ি বাজারে আসে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শিল্পের ক্ষতি
এই সিঙ্গুর আন্দোলনের জেরেই রাজ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটে এবং ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হন। কৃষকদের ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিল্পের মুখ ঘুরে যায় বলে মনে করা হয়। একসম ব্রিটিশদের রাজধানী ছিল কলকাতা। তা আজ শিল্পক্ষেত্র থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যতের রূপরেখা ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে টাটাকে ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও, বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গত কয়েক বছরে সিঙ্গুর বা সংলগ্ন এলাকায় জমির দাম প্রায় ১৫ গুণ বেড়ে গেছে। তাই টাটাকে পুনরায় কোথায় এবং কীভাবে জমি দেওয়া হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে এই জল্পনা সত্যি হলে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে তা এক বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।