চুম্বক নয়, শুধু সফটওয়্যার মাধ্যমে ভারতের নতুন ইভি বিপ্লব। চীনের রাজত্ব শেষ, এসে গেল ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ ইভি মোটর।
দুর্লভ খনিজ পদার্থ ‘চুম্বক’ এর ক্ষেত্রে চীন আর চোক রাঙাতে পারবে না ভারতকে । কারণ ভারত নিজস্ব টেকনোলজিতে তৈরি করেছে চুম্বক বিহীন মোটর । এই মোটর সফটওয়ারে দ্বারা চালিত।এই মোটর আবিষ্কার করেছে বেঙ্গালুরুর একটি স্টার্টআপ ভিমাগ ল্যাবস (Vimag Labs) ।
মোটরটি কীভাবে কাজকরে সাধারণ মোটরে বিদ্যুৎ পাঠাতে ব্রাশ বা স্লিপ-রিং ব্যবহার করা হয়, যা সময়ের সাথে সাথে ক্ষয় হয়ে যায়। কিন্তু এই মোটরে একটি রোটেটিং ট্রান্সফরমার (Rotating Transformer) ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে চুম্বকের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে তামার কয়েল ও স্টীল বডি। যেহেতু মোটরে কোনো পার্মানেন্ট ম্যাগনেট নেই তাই এটিকে ঘোরানোর জন্যে সফটওয়ার এর দ্বারা চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে বা ‘ভার্চুয়াল ম্যাগনেট’
সৃষ্টি হয়।মোটরের ভেতরের অংশ (Rotor) এবং বাইরের অংশ (Stator) এই দুই জায়গার চৌম্বক ক্ষেত্রের পারস্পরিক আকর্ষণ ও বিকর্ষণের কারণে রটারটি তীব্র গতিতে ঘুরতে শুরু করে। এটি প্রচলিত পার্মানেন্ট ম্যাগনেট মোটরের (PMSM) মতোই নিখুঁত গতি – শক্তি (Torque) দিতে সক্ষম ।
যখন চীন দুর্লভ খনিজ পদার্থ এর রপ্তানি রোধ করলো , তখন ভারতের মনীশ কুমার শেঠ -এর ডিজাইন তৈরি করে।তিনি পিযূষ দেশাই (Piyush Desai)-এর সাথে যৌথভাবে এই স্টার্টআপটি শুরু করেন। মনীশ শেঠ ইতিপূর্বে ভক্সওয়াগন (Volkswagen), ফোর্ড (Ford) এবং জেনারেল মোটরস (General Motors)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক অটোমোবাইল সংস্থায় ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজে যুক্ত ছিলেন।মনীশ কুমার শেঠ ও পিযূষ দেশাই কর্ণাটকে বেঙ্গালুরুর একটি টেক ল্যাব ভিমাগ ল্যাবস (Vimag Labs) তে এর আর এন্ডি (R &D) শুরু করে। প্রথমে একটি ছোট ল্যাবে এর প্রক্রিয়া শুরু হয়,কোনো বড়ো ফ্যাক্টরী ছাড়াই। এই মোটরের জটিল আর্কিটেকচার এবং এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিখুঁত করতে ৮৭,৬০০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা সফলভাবে এর ব্রাশ-লেস (Brushless) এবং স্লিপ-রিং-মুক্ত ডিজাইনটি তৈরি করতে সক্ষম হন। এবং তারা পেটেন্ড (Patent)ফাইল করেছে,যেটা তাদের এই টেকনোলজি আইনি সুরক্ষা দেয়।
এর ফলে ভারতে স্রাটেজিক সুবিধা
বিশ্বের মোট বিরল খনিজ চুম্বকের (Rare-earth magnets) প্রায় ৭০% একা চীন উৎপাদন করে এবং এর প্রসেসিংয়ের ৯০% তাদের নিয়ন্ত্রণে। ভারতের ইভি (EV) এবং প্রতিরক্ষা শিল্প পুরোপুরি এই চুম্বকের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই নতুন প্রযুক্তির ফলে ভারত এখন চীনকে সম্পূর্ণ বাইপাস করে নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে পারবে।
২. নিজস্ব কাঁচামালের ব্যবহার ও খরচ হ্রাস (Supply Chain Independence)এই মোটরে কোনো দামি বিদেশী খনিজ (যেমন- নিওডিমিয়াম বা ডিসপ্রোসিয়াম) লাগে না। এটি তৈরি হয় সাধারণ তামা (Copper) এবং ইস্পাত (Steel) দিয়ে, যা ভারতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, ডলার সাশ্রয় হবে এবং ভারতে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
৩. প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ খাতে জাতীয় নিরাপত্তা (Defense & Aerospace Security)ভারতের মিসাইল, ড্রোন, সাবমেরিন এবং যুদ্ধবিমানের মতো স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোতে শক্তিশালী মোটরের প্রয়োজন হয়। যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় চীন যদি চুম্বক সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে ভারতের প্রতিরক্ষা খাত ঝুঁকিতে পড়তে পারত। এই সম্পূর্ণ ভারতীয় ও চুম্বক-হীন প্রযুক্তি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে শতভাগ সুরক্ষিত রাখবে।