ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) ভি. অনন্ত নগেশ্বরণ সতর্ক করেছেন Ai

নয়াদিল্লি, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) ভি. অনন্ত নগেশ্বরণ সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভারতের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বা হয়ে দাঁড়িয়েছে । ২০২৬ সালের ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি জানান, যদি এআই মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির গতির চেয়ে দ্রুত কর্মক্ষেত্র দখল করে, তবে ভারতের জন তাত্ত্বিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে ।
৮০ লক্ষ চাকরির চ্যালেঞ্জ ও কাঠামোগত দুর্বলতা
নগেশ্বরণ উল্লেখ করেন যে, ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে ভারতের প্রতি বছর অন্তত ৮০ লক্ষ (৮ মিলিয়ন) নতুন অ-কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রয়োজন । তবে ভারতের শ্রমশক্তির একটি বিশাল অংশ প্রথাগত দক্ষতা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। এই দক্ষতাহীনতাকে তিনি একটি “কাঠামোগত দুর্বলতা” (structural vulnerability) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন । তিনি সতর্ক করে বলেন যে, উন্নত দেশগুলোর জন্য এআই একটি সহায়ক শক্তি হতে পারে, কিন্তু ভারতের মতো জনবহুল দেশের জন্য এটি একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ ।

ঝুঁকিতে আইটি ও পরিষেবা খাত

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে হোয়াইট-কলার বা বুদ্ধি বৃত্তিক কাজের একটি বড় অংশ এআই দ্বারা স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে । ইতিমধ্য়েই ভারতের আইটি সূচক (Nifty IT Index) বড় ধরনের পতনের সম্মুখীন হয়েছে, যা এআই-এর প্রভাবে চাকরির অনিশ্চয়তাকে প্রতিফলিত করে । শিক্ষা এবং টেলিকমিউনিকেশনের মতো, খাতগুলোতেও এআই-এর কারণে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে।

শ্রম-নিবিড় খাতের ওপর জোর

এই সংকট মোকাবিলায় নগেশ্বরণ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি নির্মাণ, এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো শ্রম-নিবিড় (labour-intensive) খাতগুলোর প্রসারের ওপর জোর দিয়েছেন । তার মতে, এই খাতগুলো সাধারণ কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা কবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি এই ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের পথে থাকা সমস্ত নিয়ন্ত্রক বাধা দূর করার আহ্বান জানান ।

শিক্ষার সংস্কার ও ‘টিম ইন্ডিয়া’ পদ্ধতি

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নগেশ্বরণ ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠদান পদ্ধতিতে আমূল সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, এআই যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, অভিযোজন ক্ষমতা এবং সিস্টেম থিঙ্কিং বা সামগ্রিক চিন্তাধারার মতো মৌলিক দক্ষতায় শিক্ষিত করতে হবে । এই রূপান্তরকে সফল করতে তিনি সরকার, বেসরকারি শিল্প এবং শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি সমন্বিত “টিম ইন্ডিয়া” পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ।প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, ভারতই হতে পারে প্রথম কোনো বড় দেশ যারা মানুষের প্রতিভা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করে সমৃদ্ধি অর্জন করবে। তবে এই সুযোগের জানালা অনির্দিষ্টকালের জন্য খোলা থাকবে না, তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ।

Leave a Comment